যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

Tuesday, 6 October 2020

মিত্রাণী আদক

 

ঠিকানা

মিত্রাণী আদক


যদিও নারীজঠর থেকে জীবনের শুরু,

তবু বীজ পোঁতে যে পুরুষ তার নামেই নিজের ঠিকানা লেখা শিখেছি। 

আমার যা কিছু ছিল তাকে সেই অস্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েই 

ভুলে গেছি কি নাম ছিল আমার, 

ঘরোয়া জবা কিম্বা কেতাবী যশোবন্তী। 

তারপরেও নতুন অক্ষরে অক্ষরে সেজে উঠেছে আমার নারীজন্ম, 

যেটুকু শব্দ মাধুকরীবিদ্যায় অর্জন করেছি, 

তাদের ঘষে মেজে লিখে নিয়েছি কান্নাহাসির চিরকুট স্বপ্ন।  

যেটুকু জমানো রঙ খুঁজে এনেছি চোখের আলোয়, 

তারা রং খুইয়ে আলোছায়া জলছবির মত 

লুকিয়ে গেছে দিনান্তের আলগা ঠিকানায়; 

ভালোবেসে যার দুচোখে লিখে দিয়েছিলাম সবটুকু অধিকার, 

সে শুধু শরীরেই ঠিকানাই জেনে নিয়েছে স্পর্শে, 

শীৎকারে,প্রেমে এবং অপ্রেমে। 

প্রিয় ডাকনাম আর রিপুদ্বন্দ্ব ভুলে হারিয়ে গেছে না বলে যাওয়া ঠিকানায়। 

আমি ঘর পোড়ানো আগুন ছুঁয়ে জেগে রয়েছি নতুন সংসার পাতবো বলে। 

এতো পিছুটান আমার, এত সাংসারিক মায়ামোহ, 

অথচ এয়োতী সংস্কার বলে যায়,  সিঁদুর,শাঁখা-পলা 

বা আলতাপায়ের ছাপ দাম্পত্য ঠিকানার মাধুকরী সম্মোহনমাত্র! 

ঋতুমতী হবার পর মা বলেছিলেন, 

নারীত্বের জরায়ুসুখেই নাকি লেখা আছে আমার আয়ুষ্কাল ঠিকানা!

এত বিভ্রম চাই না আর, শুধু বলি, ফিনিক্সজীবন আমার, 

সব অলীক ঠিকানা মুছে নিয়ে দিকশুণ্যপুরের দুরত্বসুখটুকুই দিও।

No comments:

Post a Comment