যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

Tuesday, 6 October 2020

জয়া গোস্বামীর কবিতা--

জয়া গোস্বামীর কবিতা-- 

বিষাদের সুর


আজ নিদাঘের সূচনায় গোধূলির এই 

রক্তিম আভায় প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে 

বসন্তের দখিনা বাতাস আবার 

প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে কি বৈশালীর বুক!!...

সকাল থেকে দূরে সানাই এর সুর 

করুণ সুরে বেজে চলেছে মনের ঘরে 

কেউ দাঁড়িয়ে  আছে দূরে,

গাছে ফুল নেই পাখি ডাকেনি সকাল থেকে! 

সবাই নিশ্চুপ। 

নিশুতি রাতের মত সকালটাকে মনে হচ্ছে।

আবছা দূরে একটা পালকি দেখা যাচ্ছে।

মনে প্রশ্ন থাকে কিসের সূচনা.........

 

আজ সেজেছে আম্রপালি 

রত্নখোচিত নীলাম্বরী শাড়ী অঙ্গে 

তুলেছে, কালভূজঙ্গের মত

লম্বা বেণী, তাতে কেতকী দিয়ে 

মনোরম করে তুলেছে। 

লাগছে বেশ শান্ত নর্তকী।

কেউ দেখিনি আগে বৈশালীর নর্তকী  

যার ঘুঙুরে আওয়াজ তুলতো ঝঙ্কার! 

আজ ঘুঙুর 

কাঁদছে উদাস নর্তকীকে দেখে। 

মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে ভূতলে নেমে এসেছে অপ্সরা। 

তিনি সামান্য নারী না রাজরাজেশ্বরী!  

আজ কিসের এত সাজ!

তবে কি মনের আশাপূর্ণ হবে! 

আজ কবিও চায় আম্রপালি নতুন জীবনে প্রবেশ করুক, 

নর্তকীর আসনে আর না। 

সাম্রজ্ঞীর চোখে কবি দেখতে চায়। 

তবে কেনে এত উদাস আম্রপালি! 

সানাই-এ কেন বিরহের সুর তুলেছে!!

তবে কি আবার অন্যকিছু মনে আছে তার!!

সে যাই হোক তোমায় আমি মনে রাখবো 

আমার খাতার পৃষ্ঠায়।  

আজীবন বন্দী করে রাখলাম তোমায়। 

আবার ঋতুতে নতুন আমগাছে মুকুল আসবে।

সেই ফুলের গন্ধে মৌমাছি আসবে 

তখন কবি মনে করবে রাজা পুরন্দের কথা

মৌমাছি হয়ে তার আম্রপালির নির্যাস নিতে এসেছে আবার ।

আমার কাব্যগ্রন্থে প্রতিনিয়ত মনে করাবে তোমায় সুমিষ্ট আমটি। 

আমার হাতে এলে এক বার হলে মনে করবে কবি তার আম্রপালিক


আমার প্রিয়া


গোধুলির রক্তিম আভা ,এখন 

সম্পূর্ণভাবে মুছে যায় নি।

আজ তুমি ভালো আছো? কিভাবে কাটালে?

পেলে কিন্তু একটা ঝক ঝকে দিন, 

আর ঝলমলে রাত,কেমন কাটছে তোমার আম্রপালি ?

সুখের চাদর গায়ে মেখে , অতীত 

ভুলে গেলেও সব ভুলতে পেরেছো?


ঝাড়বাতির তলায় রোজ নিজেকে 

মেলে  ধরতে কষ্ট হয়না? 

নিজেকে সাজিয়ে তোল

রাতের পর রাত , কি সুরমা চোখে দাও,

তাতে তুমি খুব মায়াবী হয়ে ওঠো, 

তোমার গায়ের  উগ্র গন্ধে কেমন যেন নেশা ধরাও!

তুমি নিষ্ঠুর, ইচ্ছের ঘরে নিজেকে গলা টিপে  মেরে ফেলো!!

জীবন যখন শুকিয়ে যায় করুণা ধারায় এসে

সব মাধুরী লুকিয়ে তুমি কি করে  সংকটে থাকো ?

নিজের তনু মন প্রাণ দিয়ে 

আমাকে নিহত করছো রাতের পর রাত!

গীতসুধা বাঁধে.........আমার চাওয়া 

পাওয়ার পূর্ণতা পূর্ণ করে চলেছো,

গ্রহণ করে চলেছো নম্রশিরে,

ভূলোকে নিয়ে চলো নিবিড়ে সুধায় ,

ভরিয়ে তোল

জানি আমার হৃদয়ের প্রাপ্তি তুমি ,উদা

তোমার অলস আঁখির আবরণে  

আমাকে আগলে রাখো প্রিয়া!!


মুক্ত আকাশে


মুক্ত আকাশে আজ এক ঝাঁক বলাকা দিয়েছে পারি 

ওরা কোন বাঁধা শোনেনি, শরৎ এর মেঘের সাথে ওদের খুব আড়ি-- 

কোথায় চলেছে ভেসে 

যাবে আজ অচিন দেশে 


হিসাব রাখিনি এক ঝাঁক দল বেঁধেছে

চলেছে ওরা  শূনে ভেসে ভেসে 

চলেছে এক মনে, দূরে আকাশটা ছুঁতে চায়  

গাছের তমাল সারি তার মাঝে দেখা যায় 

ওরা উড়ে চলে যায় মনখারাপের মাঝে 

আমি হাতড়ে বেরাই, ওদের ছুতে চাই 

আমি যেতে চাই ওদের সাথে

অজানা দেশে যেখানে থাকবে-- 


মুঠো মুঠো খুশি আমি ও হব মুক্ত, 

বিহঙ্গ নেবে ওদের থেকে খুশির ঠিকানা 

যত ওদের থেকে .....

মাটির বন্ধন দেবো, দূর করে আকাশে। 


খুঁজবো মনের ঠিকানার সন্ধানে

আবেশে দেখবো মনের অজানা 

শহর বেদনার অনুরাগে দিশাহারা 

হব খুঁজতে কিনারা, দ্বীপ হতে দ্বীপান্তরে। 


অজানা হতে অজানায়।

অসংখ্য বলাকার সাথে দিনেরাতে মিলবো 

নীড় হারাদের সাথে আলো-অন্ধকারে

কোন পার হতে কোন পারে। 


কোনখানে যাবো উড়ে চলে

অন্য কোথা, অন্য দেশে

অন্য কোন খানে-- 

ওদের সাথে সুখের নীড় গরবো।


No comments:

Post a Comment