সীমা বানার্জ্জী-রায়ের গুচ্ছকবিতা--
এপিটোম
যখন শরীরের মধ্যে বন্দী অশনি-সংকেত
মনে করিয়ে দেয় মৌরীফুলের তৃণাঙ্কুর
যখন মানুষ ফিরে আসে
তার ব্যক্তিগত 'অনুবর্তন'-এর আদর্শ হিন্দু হোটেলে
তখন ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সুখ-দুঃখের সাথে
আমার সুখ দুঃখ মিশিয়ে ভালোবাসাবাসি করি
'
সমস্ত দিন সমস্ত রাত নিজেকে করি ইছামতী
অলিগলি খুঁজে বেড়াই পথের পাঁচালী
ক্ষণভঙ্গুর 'আরণ্যক' নামক গূঢ় স্মৃতি নিয়ে...
সে তৎপরতা দেখার মতো , যদিও দেখা হয়নি এপিটোম
তবুও ধূসর খাতায় লেখা আরেকটি কবিতার
ভালোবাসা জন্ম নেয়।
স্বরলিপি
ব্রাজো নদীতে আজ এত জলের নাচন
আকাশ থেকে বৃষ্টির স্বরলিপি
শোনা যাচ্ছে
কী অসম্ভব তাল, লয়, সুরছন্দ...
প্রবল হাওয়ায় ভাসে ছেঁড়া কথারা
ফেটে পড়ে বিদ্যুতের উদাসী আওয়াজ
চাপা গর্জনের মধ্যে যেন এক
প্রতিদ্বন্দ্বী অভিমান
জয়ডঙ্কা বাজিয়ে দিগন্তের কাছে
মিশে আছে অলৌ্কিক আলো
আকস্মিক সুন্দর তা, এ যেন প্রকৃ্তির
দুনির্বার খেলার দৃশ্য-
ঝড় আর বৃষ্টির নেশায় পড়ে
থাকে কবি বন্ধু...
জানি না কোথায় ভুল হয়ে যায়'
কেউ মুখ ফিরিয়ে চলে যায়,
আমার মনের স্বরলিপি
দিগভ্রান্ত হয় ক্রমাগত।
মেঘ না বৃষ্টি
এখানেও আকাশে মেঘ আসে কিন্তু বৃষ্টির জলধারা আনে না
কোন স্মৃতি, না কোন স্বপ্ন।
অদ্ভুত অচেনা বন্যা আকস্মিক অন্ধ করে দেয় নারীপুরুষের
সঙ্গোমের প্রতিবন্ধকতা। অফুরন্ত শোনিতপ্রবাহে মাটি ভিজে একাকার
আর সমস্ত অসাড় । দগদগে বৃষ্টি নামে বিদ্যুতেরও বেশী গতিবেগে...
বৃষ্টির ডানায় থাকে তখনও টকটকে লাল রক্তের দাগ
শুধু আকাশ যেন কোন সূত্রে কবেকার চেনা-
মিছিল করা স্মৃতিগুলো কিছুতেই তাল মেলাতে পা্রে না।
এই স্ংকেতের অনুবাদ যদিও অসম্ভব
পারলৌকিক স্তব্ধতা যেন ব্জ্রকঠিন স্তম্ভ...
দেখো ! তোমাদের পবিত্র বৃষ্টি আসবেই আগামী
এই প্রত্যাদেশে আমি এক সূর্যোদয়কামী।
*
বৃষ্টি আবীর
No comments:
Post a Comment