যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

Tuesday, 6 October 2020

গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা--

 

গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা-- 


"আমি,  সোনাগাছি....”



শেডের নীচে ঠায় দাঁড়িয়ে এই যে আমি...,

থমকে যাওয়া সংঘর্ষের পেটে কামড়...,

ফ্যাকাশে ঠোঁট, নখের কোণে রক্ত জমাট..,

অনিচ্ছা'তে বুকের ভাঁজে হাজার আঁচড় !

 

চুম্বনে'তে ঠোঁট কাঁপে না, হৃদয়ও তো...,

মনের মাঝে দুষ্টুমি'টাও গুম্ মেরেছে..,

ঘোলাটে চোখ মায়ের আমার,মত্ত বাবা..,

দুটো হাঁড়ি ঠেলছি একাই ভাত ফুটছে ! 

 

অভিমান'টাও নির্বাসিত নিঃশব্দে...,

ভালোবাসা কোন কালেই বুঝিনি তো..,

সম্মানেতে বেঁচে থাকার লড়াই শেষে..,

ভাতের বদল বেচে দেওয়া কুমারীত্ব ! 

 

অন্ধকারে জমা সে ভয়  ডুকরে ওঠে...,

নেই যে আলো, সজীবতার বন্ধ কপাট..,

ক্লান্ত আমার শাদা যোনি সঙ্গমেতে..,

ঊর্বশী নই, গালে বয়স মারছে সপাট !

 

রেডলাইটের ল্যাম্পপোস্টের নিওন আলো..,

নিভে যাওয়া সলতে প্রদীপ হঠাৎ যেন...,

অন্ধকারে সেই রেখা'টা ধর্ষিত আজ...,

ভাতের বদল মাংস বেচা বন্ধ কেন ! ?


এসো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি


জানালার বাইরে বাঙময় এ পৃথিবী

বড্ড বিপর্যস্ত, নির্জন ঠেকে আজ...,

দু'চার কুকুরের নিঃশব্দ, উদ্বিগ্ন অন্বেষণ দেখে 

নিজেকেও বড় দলছুট লাগে.. 

যেন নৈশব্দেও এক ভয়ার্ত আর্তি 

লুকিয়ে আছে কোন আস্তানায়,

অসহায়ত্বের মাঝে বসে বসে

গাছেদের পাতা ঝরা আর নতুন সবুজ পাতার

চোখ মেলতে দেখে প্রাণে সঞ্চারিত হয়

এক সূর্যোদয়ের আশার ওম...,

তবুও একরাশ উদ্বেগ নিয়ে বসে থাকার

অন্ধকার প্রহর যেন শেষ হয় না কিছুতেই ! 

হিসেব-নিকেশের খাতায় ক্রমে জমে ওঠা ধূলো 

নাগরিকত্বের হিসেব ভুলে গেছে "বোধ" হয় !

সময় আর বসন্ত  ফিরে চায় না কোন

মা' এর চোখের মতো, নিজের ঘরের  মতো !

তাই আনন্দ বিহার থেকে নিরানন্দে পলায়নরত 

মানুষের অকল্পনীয় অবিশ্রান্ত পা দেখে

মন উদ্বেলিত হয়ে ওঠে ! 

আজ "ওরাও" বুঝে গেছে

কোন রাম , রহিম বা যীশু

বাড়াবে না কোন পরমাশ্চর্য হাত !

ওদের ঘর'ই শুধু দিতে পারে

একটু নুন আর দুমুঠো ভাত!

ওরা বুঝে গেছে বসুধৈব কুটুম্বকম্' বা

ওম সার্বেশম সাভাস্তির ভবতু'র অর্থ ! 

হে মানব, ভীষ্মের শরশয্যা ছেড়ে ওঠো...,

এসো দেবব্রত'এর মত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি !


একটি মাছরাঙা'র গদ্য 

 

জলের ধারে মাছরাঙা'টি ঠায় দাঁড়িয়ে..

নোংরা -সবুজ জলাজমি করছে বমি.., 

দমবন্ধ- বিষন্নতায় আকাশ দেখে..,

কে যে কখন জল দেবে, চোখ-মুখ ধোয়াবে !

 

মাছরাঙা'টির কষ্ট খানিক অবাক করা..,

বাঁচার তাগিদ সংঘর্ষ একপায়ে ঠায়...,

জনাকয়েক সে পুকুরের পাঁক তুলে যায়..

মাছরাঙা'টির দিন যে  কাটে অনুশোচনায় !

 

কে করে যে হিসেবে নিকেশ কার বয়ে যায়..,

অনুশোচনা, আফসোসে কার কী আসে যায় ! 

 

মাছরাঙা'টির ইচ্ছেগুলো তবুও জমাট...,

তপ্ত রোদে জল শুকিয়ে  খটখটে মাঠ..,

ইচ্ছেগুলো ঝরা পালক আপনি খসে..., 

শুকিয়ে যাওয়া ওই পুকুরে ঠোকর মারে !

 

স্বপ্নগুলো আজ কেন সব বিকলাঙ্গ.., 

আকাঙ্খা'রও হাতছানি'টা রামধনু  যে..,

বিরামহীন - দুর্দিন'টাও ঠিক পিছু ধায়..,

অনুতাপ বা আফসোসে কার কী আসে যায় ! 

 

উড়লো খানিক মাছরাঙা'টি মাঝ-বিকেলে..,

দমকা হাওয়ায় পড়লো হঠাৎ মুখ থুবড়ে, 

চোখের কোণে অনুশোচনা'র দু' ফোঁটা জল..,

পড়লো ঝরে জলাভূমি'র পাশের ঢালে ! 

 

কে করে তার হিসেব-নিকেশ, কার কী যে দায়..,

আফসোস বা অনুতাপে ! কার কী আসে যায় !!


"জারণ ও রোমন্থন"

 

আমার গড়পড়তা বাসী খাবার খাওয়া জীবন

চোঁয়া ঢেকুরের মতোই তিক্ত বিস্বাদযুক্ত...

অতিকথনের আমি'র ব্যক্তিজীবনের

গভীরতার অর্থটাই অর্থহীন..

লোকে বলে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানে লিভার পচে 

তাই সুরাপান যত কম হয় ততই অর্থপূর্ণ জীবন!

আমি জীবন বুঝি না

আমি মেপে চলি না

নিজের পা'য়ের শব্দ শুনি নিজে

আমি মেপে কথা বলি না

আমি ব্যক্তিত্বের ধার ধারি না....

আমার আমি রবীন্দ্রনাথে কাঁদে,. 

মন চঞ্চল, বিদ্রোহী নজরুলে...

শালপাতার ঠোঙা চাটা মহুয়ায় 

টালমাটাল কলম আমার

ঠাঁই নেই কোনো কবিকূলে!

তবুও "জারণ" আর "রোমন্হন" দুটি প্রিয় শব্দ

নিয়ে খেলা করি আমি 

কোনো মহুয়া গাছের নীচে বসে

ফুল ফল ঝরা দেখি

চোখবুজে একটুক...

চুমু খাওয়া ঠোঁট মহুয়ায় চিনচিন...

আমি বাঁধভাঙা প্লাবন...

ভাসে শব্দ কথা হ'য়ে হ'য়ে প্রতিদিন..

প্লাবিত করে চোখ আমার...

নিশ্চিন্তে বয়ে যাওয়া ভেসে যাওয়া তুমি

আর তোমার ভালোবাসা 

গাল বেয়ে কলেজার ধারে

কখন যে ঠায় দাঁড়িয়ে 

নেশাচ্ছন্ন চোখে ঠাহর করা হোয়ে ওঠে না....

আমার নেশা পাত্র খালি হলেই

হাত বাড়াবো, তাড়া দিও না...

চুমুকে চুমুকে আস্বাদন করে 

আস্বাদিত,আহ্লাদিত আমি

কোনো অস্থিরতা প্রর্দশন করি না...

কারণ এও তো এক চরিত্রের দীনতার প্রকাশ!

সমস্যা গভীর আর গম্ভীর হলে

ভালোবাসি কবিতা..

মহুয়া গাছের নীচে

আসক্তির জিভ পিষে ফেলে মহুয়া

আর শব্দরা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে

আমার আমি'কে....আর শুরু হয়

জারণ আর রোমন্থন......


1 comment:

  1. অনেক ভালোবাসা শ্রদ্ধা জড়িয়ে তাপসদা

    ReplyDelete