যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা

Tuesday, 6 October 2020

হিমাদ্রি বন্দোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা--

হিমাদ্রি বন্দোপাধ্যায়ের  তিনটি কবিতা--

কাম 


যে ছেলেটা সাফ্ ক'রে যেতো যত পয়ঃপ্রণালী

নাম তার ছিল 'ধাঙরচন্দ্র অমুক-তমুক'

তেমনই তো তুমি

প্রজ্ঞাবানেরা 'শত্রু' ব'লে জানান দিয়েছে।

তোমার স্পর্শে নাকি রোজ কলুষিত হয় ভব্যজীবন!

সে পাপ কি তুমিই করেছো?


প্রতিদিন সন্দেশে সন্দেশে রক্ত ঝরে

সে কি তোমার খর্পরে?

মদনভস্ম কি তবে পাপ হয়েছে জগতে?

নাকি আরও এক শত্রু আছে তোমার আড়ালে!

অন্ধকারে ব'সে থেকে সুদর্শন চক্র ছুঁড়ে দ্যায়! 


দুর্লভ জরিবুটি দিয়ে অস্তিত্ব তোমার 

এইবার মুছে দেবো।

দেখে নেবো, সভ্যতা টেকে, কি টেকে না।


ক্রোধ


তুমি আজ কত দূরে, হে চণ্ডাল!

মানুষকে কখনও সখনও ক্ষেপা ষাড় হতে হয়

ষণ্ড তো তার শৃঙ্গ খুলে রাখে না কদাপি!

শৃঙ্গ তার প্রতিবাদের নিশান।

তবে আমি কেন মিথ্যে মীন হয়ে যাবো!

শীতল করবো শরীর

শীতল করবো শোণিত

শুধু আবদ্ধ জলে দেহ ঝাঁপটাবো!


তোমার আগুনে প্রাণ জ্বলে ওঠে কৈ আজ!

টলারেন্স অজুহাত হয়েই উঠেছে।


কোথায় দুর্বাশা তুমি!

কিছুই ঘটেনি কি তোমার আসার!

তানসেন দীপক কি গাইতে ভুলেছে!


ক্রোধ, তুমি বড় দুর্লভ হয়েছো

সকলেই হাইবারনেশনে আছে

নিষ্ক্রোধ মানুষ শুধু অভিসন্ধি খোঁজে।


একবার ফেটে পড়া চাই

একবার জ্ব'লে ওঠা আকাঙ্খিত বড়

একবার অভিশাপ ছুঁড়ে দিয়ে যাও

এই ভব্য মনুষ্য সমাজে।


মোহ


"এ মোহ আবরণ ঘুচাও…" 

গেয়ে উঠি তাঁর কণ্ঠে কণ্ঠ দিয়ে।

গা'ই মাত্র 

তবু সে বড় প্রিয় আমার।

জানি, সে অনিত্য 

কিম্বা আলেয়া, 

তবু সে নিঃসঙ্গ রাতে 

নিদ্রায় অনুসঙ্গ বটে জড়িয়ে শোওয়ার।


তাকে ছাড়া জীবন বিস্বাদ 

এই প্রেম, এই স্নেহ, এই আর্তি-আকুতি 

সকল অনিত্য, জানি।


যে নিত্য সে নিত্য 

তাকে তো চিনিনে! 

যা কিছু আমার শয়নে স্বপনে তৃপ্তি এনে দ্যায়

সকলই অনিত্য মোহ।

মোহপাশে আবদ্ধ মানুষ

সৃষ্টি করে নতুন মানুষ।


অন্যথায় সবকিছু বেশভুষার মতন

খুলে রেখে চ'লে যেতে হয় সেই অনিত্যের খোঁজে

যার সাথে মানবের সহবাস নেই।

সেও এক মোহ।


No comments:

Post a Comment